কেপলার টেলিস্কোপে আরও দশটি গ্রহের সন্ধান মিলেছে: আমরা একা নই!

কেপলার টেলিস্কোপে এ পর্যন্ত সন্ধান মিলেছে বহু ‘পাথুরে পৃথিবী’র। এসব ভিনগ্রহের বেশ কয়েকটায় পানির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ায় প্রত্যাশা করা হচ্ছে প্রাণের সন্ধান মিলবে এগুলোতে। আমাদের সৌরজগতের বাইরে অবস্থিত ভিনগ্রহের দীর্ঘ-হতে-থাকা তালিকায় আরও ২১৯ টি গ্রহকে যুক্ত করেছেন জ্যোতির্বিদরা। ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যে দশটি আকারে এবং তাপমাত্রায় পৃথিবীর মত, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার দারুন সম্ভাবনা রয়েছে।

 

পৃথিবী বনাম Kepler 452b গ্রহ

পৃথিবী এবং Kepler 452b দুটো গ্রহই G2 শ্রেণীর নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, Kepler 452b পৃথিবীর চেয়ে ৬০% বড়। কেপলার ৪৫২বি গোল্ডিলক অঞ্চলে অবস্থিত

 

সিগনাস তারকামণ্ডলের দুই লক্ষ তারার উপর অনুসন্ধানের ফলে পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, সদ্য আবিস্কৃত দশটি পাথুরে গ্রহ তাদের নিজ সৌরজগতের গোল্ডিলক অঞ্চলে অবস্থান করছে।

 

গোল্ডিলক অঞ্চল

গোল্ডিলক অঞ্চল

 

তার মানে হল এই গ্রহগুলো তাদের সূর্য থেকে এমন একটি সুবিধাজনক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে পানি তরল অবস্থায় বিরাজ করে, তারার খুব কাছে নয় যে বাস্প হয়ে উড়ে যাবে। আবার খুব দূরেও নয় যেখানে পর্যাপ্ত তাপের অভাবে পানি জমে বরফ হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন তরল পানি ছাড়া প্রাণের উন্মেষ সম্ভব নয়। আর এ কারণেই তাঁরা এই গ্রহগুলোতে প্রাণের অস্তিত্বের ব্যাপারে আশাবাদী।

 

শিল্পীর চোখে ভিনগ্রহে সূর্যোদয়

শিল্পীর চোখে ভিনগ্রহে সূর্যোদয়

 

আমাদের সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর মত গ্রহের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে কেপলার টেলিস্কোপ পাঠিয়েছিল নাসা ২০০৯ সালে। নাসার লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর মত গ্রহ কি আমাদের গ্যালাক্সিতে বিরল কিনা তার খোঁজ করা।

 

কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ

কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ

 

কেপলারের মাধ্যমে প্রাপ্ত ডাটার চুড়ান্ত পর্যবেক্ষণ শেষে বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করবেন। পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা হিসেব করার একেবারে প্রথম ধাপ এটি।

 

কেপলার ১৮৬এফ, আরেকটি সম্ভাবনাময় 'পৃথিবী'

কেপলার ১৮৬এফ, আরেকটি সম্ভাবনাময় ‘পৃথিবী’

 

চার বছরের মিশনে কেপলার পাকাপাকিভাবে ২,৩৩৫ টি ভিনগ্রহের অস্তিত্বের ব্যাপারে জানিয়েছে। আরও ১,৬৯৯ টি গ্রহের ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় নি। সব মিলিয়ে মোট ৪,০৩৪ টি গ্রহ খুঁজে পেয়েছে কেপলার।

 

কেপলার টেলিস্কোপে খুঁজে পাওয়া পৃথিবী মতো কিছু এক্সোপ্ল্যানেট

কেপলার টেলিস্কোপে খুঁজে পাওয়া পৃথিবী মতো কিছু এক্সোপ্ল্যানেট, সবগুলো গ্রহই তাদের সূর্যের চারপাশের বসবাসযোগ্য অঞ্চলে রয়েছে

 

তার মধ্যে অন্তত ৫০ টি গ্রহের আকার ও তাপমাত্রা পৃথিবীর মত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুনিয়ার সব টেলিস্কোপের জরিপ মাপজোক করে বিজ্ঞানীরা আমাদের সোলার সিস্টেমের বাইরে প্রায় ৩৫০০ গ্রহের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন।

 

পৃথিবীর মতো গ্রহকে যেরকম বিরল ভাবা হত দেখা গেল আসলে তত বিরল না

পৃথিবীর মতো গ্রহকে যেরকম বিরল ভাবা হত দেখা গেল আসলে তত বিরল না

 

কেপলার ডাটা থেকে গ্রহের পৃষ্ঠতল নিরেট  না গ্যাসীয় সেটা হিসেব করবারও একটি নতুন উপায় পাওয়া গেছে। এই তফাৎ বিজ্ঞানীদের জানতে সাহায্য করবে কোথায় প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব আর কোথায় নয়।

 

নক্ষত্রের কাছাকাছি কক্ষপথে যেসব গ্রহ আবর্তন করে সেগুলোই সাধারণত পাথুরে হয়

নক্ষত্রের কাছাকাছি কক্ষপথে যেসব গ্রহ আবর্তন করে সেগুলো পাথুরে হয়

 

কেপলার টিম আরও আবিস্কার করল যে, যেসব গ্রহ আকারে পৃথিবীর চেয়ে ছোটো বা ১.৭৫ গুণ পর্যন্ত বড় হয় সেগুলো মূলত পাথুরে। অন্যদিকে যেগুলো পৃথিবীর ৩.৫ গুণ বা তারও বড় সেগুলো নেপচুনের মত গ্যাসাবৃত।

 

কিছু বাসযোগ্য গ্রহ টিমটিমে ছোট তারাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে

কিছু বাসযোগ্য গ্রহ টিমটিমে ছোট তারাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে

 

তবে এখন পর্যন্ত ”সুপার আর্থ” ও “মিনি নেপচুন” টাইপের খুবই কমন এই গ্রহগুলো আমাদের সৌরজগতের ভেতর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

Share on Facebook

মন্তব্য করুন

×