ভরপেট খাওয়ার পরে আমাদের ঘুম পায় কেন?

১৪ নভেম্বর ২০১৭ ফাইজা ফারাহ ৩৩০

ইশকুল , , ,

পেট পুরে খাওয়ার পর (যাকে বলে কোপাইয়া খাওয়া!) কখনো ঝিমুনি আসে নি কিংবা ঘুম পায়নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। সবাই আমরা কমবেশি এই ঘুম-ঘুম ভাবটার সাথে পরিচিত। আর যদি আমার মতো আলসে হন তাহলে আপনি দুপুরে খাবার পর গা এলিয়ে একটু ঝিমিয়ে নেয়াকে রীতিমতো ডেইলি রুটিনের অংশ বানিয়ে ফেলেছেন!

 

খেতে খেতে চিৎপটাং!

খেতে খেতে চিৎপটাং!

 

“বেশি খেলে ঘুম্পায়” (!) এ ব্যাপারটা এতোই কমন যে ডাক্তারি ভাষায় এর একখানা গালভরা নামও আছে, Postprandial Drowsiness। বাংলা করলে দাঁড়ায় এরকম – Postprandial = ভোজনোত্তর আর Drowsiness = নিদ্রালুতা, সোজা ভাষায় খাওয়ার পরের ঝিমুনি! কেন এমন হয় তার কিছু কারণ বিজ্ঞানীরা খুঁজে বের করেছেন।

 

 

মোটা দাগে বলা হয় যে, খাওয়ার পর সেই খাবার আমাদের পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে হজম আর শোষণ করে নেয়ার জন্য যে শক্তি লাগে তা মেটাতে পৌষ্টিকতন্ত্রের মধ্যে রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত সমগ্র পৌষ্টিকতন্ত্রের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুটের মতো! যখন খাবার পরিপাকের কাজ চলে তখন দেহের ৫/৫.৫ লিটার রক্তের একটা বড় অংশ পৌষ্টিকতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়।

 

পৌষ্টিকতন্ত্র

“মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত সমগ্র পৌষ্টিকতন্ত্রের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুটের মতো!”

 

স্বাভাবিকভাবে, আকার-আয়তনের বিচারে মানব দেহের সবথেকে খরুচে অঙ্গ হল ব্রেইন বা মস্তিষ্ক। দেহে যে পরিমাণ রক্ত আছে তার ২০% মস্তিষ্কের কাজকর্মের পেছনেই খরচা হয়। খাওয়ার পর যখন ব্যাপকভাবে সে খাবার পরিপাকের কাজ চলে তখন মস্তিষ্কের দরকারি রক্ত প্রবাহ ডাইভার্টেড হয়ে পরিপাকতন্ত্রের দিকে চলে যায়। যার কারণে মাথা হালকা হালকা লাগে, ঝিমুনি আসে।

আরও সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা আছে এ বিষয়ের।

১। শর্করা জাতীয় খাবার বেশি খেলে পরে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত গ্লুকোজ মস্তিষ্কের চেতনা-নিয়ন্ত্রক বিশেষ নিউরনের কাজে বাধা দেয়। এই অরেক্সিন নিউরনগুলো আমাদের সজাগ রাখে। তাই এদের কাজে বাধা পড়লে আমরা হা-হা হাই তুলে কিছুক্ষন ঝিমিয়ে নিই!

 

অধিক শর্করা এবং চর্বিজাতীয় খাবার খেলে ঘুম ঘুম ভাবটা দেখা দেয়

অধিক শর্করা এবং চর্বিজাতীয় খাবার খেলে ঘুম ঘুম ভাবটা দেখা দেয়

 

২। খাওয়ার পর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখতে অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরিত হয়। ইনসুলিন গ্লুকোজের মাত্রা নামিয়ে আনার পাশাপাশি ট্রিপ্টোফ্যান নামে একটি অ্যামিনো এসিড শোষণে সাহায্য করে। যা মস্তিষ্কে গিয়ে সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন নামে দুটি হরমোনের কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে। জমপেশ খাওয়া দাওয়ার পর গা ছেড়ে দিয়ে যে “ভাল লাগার” অনুভুতি আমরা পাই তার জন্যে দায়ী সেরোটোনিন।

 

দুপুরে খাবার পর গা এলিয়ে একটু ঝিমিয়ে নেবার মজাই আলাদা!

দুপুরে খাবার পর গা এলিয়ে একটু ঝিমিয়ে নেবার মজাই আলাদা! ধন্যবাদ, সেরোটোনিন!

 

আর মেলাটোনিন ঘুম-সজাগ চক্রের দেখভাল করে থাকে। যখন মস্তিষ্কে মেলাটোনিন উৎপাদন বাড়ে, যেমন রাতে, তখন আমরা ঘুমুতে যাই। একইভাবে কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলেও কিছু সময় পরে মেলাটোনিন তৈরি হতে থাকে আর এ কারণেই তখন আমাদের চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে আর আমরা বিছানায় গড়াগড়ি খাবার পাঁয়তারা করতে থাকি!

মন্তব্য করুন

×